শেখ রাসেল ও তার প্রিয় হাসু আপা

শেখ রাসেলের প্রিয় হাসু আপা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ১৬০ মিলিয়ন মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। আজ দিকে দিকে তার জয়ধ্বনি।
Sheikh Hasina, Sheikh Russel and Sheikh Fazilatunnesa Mujib

খুনিরা ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি, বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর ও নির্মমভাবে সপরিবারে শিশু রাসেলকেও হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বুলেটের আঘাতে একবারই হত্যা করেছে। কিন্তু শিশু রাসেলকে বুলেটের আঘাতে হত্যার করার আগেই কয়েকবার হত্যা করেছে।

এগারো বছরের শিশু রাসেল আতঙ্কিত হয়ে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, ‘আমি মায়ের কাছে যাবো’। পরবর্তী সময়ে মায়ের লাশ দেখার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিলেন ‘আমাকে হাসু আপার (শেখ হাসিনা) কাছে পাঠিয়ে দিন’ বলে। পৃথিবীতে যুগে যুগে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিন্তু এমন নির্মম, নিষ্ঠুর এবং পৈশাচিক হত্যাকান্ড আর কোথাও ঘটেনি।
Sheikh Hasina and Sheikh Russel

মা, বাবা, দুই ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচার লাশের পাশ দিয়ে হাঁটিয়ে নিতে নিতে শিশু রাসেলকে প্রতিটি লাশের সামনে মানসিকভাবেও খুন করেছে। একান্ত আপনজনের রক্তমাখা নীরব, নিথর দেহগুলোর পাশে নিয়ে গিয়ে শিশু রাসেলকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল, জঘন্য কর্মকাণ্ডের দৃশ্যগুলো দেখিয়ে তাকে ভিতর থেকেও হত্যা করে সর্বশেষে বুলেটের নির্মম আঘাতে রাসেলের দেহ থেকে অবশিষ্ট প্রাণ ভোমরাটিকেও হত্যা করে খুনিরা।

রাসেলের ছোট্ট পৃথিবী ছিল বাবা-মা, হাসু আপা, রেহানা আপু আর ভাইয়া শেখ কামাল আর শেখ জামালকে নিয়ে। ছোট্ট রাসেল ছিল সবার নয়নের মনি। এখনও রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য কান্নাধারায়। কণ্ঠ বাকরুদ্ধ হয়ে আসে অব্যক্ত বেদনায়। জগত বরেণ্য নেত্রীকে সবকিছু ভুলে হয়ে উঠতে দেখি রাসেলের হাসু আপা। মনে হয় প্রধানমন্ত্রিত্বের চাইতে রাসেলের হাসু আপা হয়ে থাকা তার কাছে অনেক বেশি গৌরবের।