‘সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে রাসেল আব্বাকে খুঁজত’

আব্বা যখন ৬-দফা দিলেন তারপরই তিনি গ্রেফতার হয়ে গেলেন। রাসেলের মুখে হাসিও মুছে গেল। সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে রাসেল আব্বাকে খুঁজত। রাসেল যখন কেবল হাঁটতে শিখেছে, আধো আধো কথা বলতে শিখেছে, আব্বা তখনই বন্দি হযে গেলেন। মা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন আব্বার মামলা-মকদ্দমা সামলাতে, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। সংগঠনকে সক্রিয় রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম চালাতেও সময় দিতে হতো।
Sheikh Russel and Sheikh Mujibur Rahman

আমি কলেজে পড়ি, সাথে সাথে রাজনীতিতে সক্রিয় হযে কাজ শুরু করি। কামাল স্কুল শেষ করে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়। সেও রাজনীতিতে যোগ দেয়। জামাল ও রেহানা স্কুলে যায়। আব্বা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাসেলের খাওয়া-দাওয়া একরকম বন্ধ হয়ে যায়। কিছু খেতে চাইতো না। ওকে মাঝে মাঝ ছোট ফুফুর বাসায় নিয়ে যেতাম।

সেখানে গেলে আমার ছোট ফুফার সাথে বসে কিছু খেতে দিতেন। ছোট ফুফা ডিম পোচের সাথে চিনি দিয়ে রাসেলকে খেতে দিতেন। ঢেঁড়স ভাজির সাথেও চিনি দিয়ে রুটি খেতেন, রাসেলকেও খাওয়াতেন। আমাদের বাসায় আম্বিয়ার মা নামে এক বুয়া ছিল, খুব আদর করতো রাসেলকে। কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে খাবার খাওয়াতো।

সূত্রঃ শেখ হাসিনার লেখা ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ বই হতে সংগৃহীত